২৩ ম্যাচে ৮ সেঞ্চুরি ১০ হাফ সেঞ্চুরি তবুও দলের বাইরে মোসাদ্দেক

মাথার উপর ৫৪৬ রানের চাপ। ৫৯ রান তুলতেই ৩ উইকেট নেই দলের। ৫ নম্বার ব্যাটিং পজিশনে ব্যাটিং করতে অাসলেন মোসাদ্দেক হোসেন। চোখের সমস্যার কারনে বাদ পড়লেন অস্ট্রেলিয়া সিরিজ থেকে। খেলতে পারেনি দক্ষিণ অাফ্রিকা সিরিজে। বিপিএলে ও তাকে ঠিক মত ব্যাবহার করেনি সাকিব অাল হাসান। বিসিবি বললো ফর্মে নেই মোসাদ্দেক।

বাদ পড়লেন ১৫ জানুয়ারী থেকে শুরু হওয়া ত্রিদেশী সিরিজ থেকে। কষ্ট নিয়েই অাজ বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে ব্যাটিংয়ে নামলেন তিনি। ফাস্ট-ক্লাস ক্রিকেটে রেকর্ড করা এই ব্যাটসম্যান দেখালেন তার ব্যাটিং কারিষ্মা। ব্যাট হাতেই জবাব দিলেন তিনি। অাজ করলেন ক্যারিয়ারে ৮তম সেঞ্চুরি। প্রথম করলেন ফর্মেই অাছেন তিনি। মোসাদ্দেক হোসেন বাংলাদেশের ভিরাট কোহলি।

অনেক দিন ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় সমস্যা টপ ওয়ার্ডার ব্যাটসম্যান নিয়ে। বিশেষ করে তিন নম্বার ব্যাটিং পজিশন নিয়ে। এই পজিশনে এখন ব্যাট করে ভিরাট কোহলি, স্টিভেন স্মিথ, কেন উইলিয়ামসন, ডি ভিলিয়ার্স, জো রুটদের মত বিশ্ব সেরা ব্যাটসম্যানরা।

তাছাড়া এই তিনে ব্যাট করতেন কিংবদন্তী শচিন টেন্ডুলেকার, কুমার সাঙ্গাকারা, রিকি পনটিং, ইনজামামুল হকদের মত ক্রিকেটার। তবে বাংলাদেশে এই তিন বছরে একাধিক ক্রিকেটার দিয়ে এ স্থান পুরনের চেস্টা করছে বিসিবি।

২০১৫ তে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ থেকে শুরু এর পর সৌম্য সরকার, অবশ্য এখন তিনি ওপেনিংয়ে ব্যাট করেন। মোমিনুল হক, সাব্বির রহমান, ইমরুল কায়েস থেকে টি-২০তে সাকিবকেও দেখা গেছে তিনে ব্যাট করতে।

কিন্তু এ পজিশনে ব্যাট করতে ব্যার্থ হয়েছেন সবাই। অবশ্য টেস্টে মোমিনুল কিছুটা সফল হলেও এখন তিনি দলের বাইরে। তবে কি তিন নম্বারে ব্যাটিং করার মত কনো ব্যাটসম্যান নেই বাংলাদেশে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে এক সুপারস্টার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। সাবেক ক্রিকেটারদের মতে মোসাদ্দেক বাংলাদেশের পরবর্তী রান মেশিন। তার ব্যাটিং স্টাইলটা অনেকটা বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যান ভিরাট কোহলি, কেন উইলিয়ামসন, স্টিভেন স্মিথ, জো রুটদের মত। কারন তিনি ক্রিকেটের তিন বিভাগেই চমৎকার ব্যাটিং করেন।

দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি স্ট্রাইক-রেট ঠিক রেখে ব্যাট করতে পারেন তিনি। ২১ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানে অভিষেক হয় টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট দিয়ে। ২০১৬ সালে জানুয়ারিতে খুলনায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক হয় তার।

তবে অভিষেকের পর থেকে তিনি তার পছন্দ মত ব্যাটিং পজিশনে ব্যাট করতে পারেনি। কখনো ৬ কখনো ৭ নম্বারে তাকে ব্যাট করতে হয়েছে। অাসলে তিনি কি ৬-৭ নম্বারে ব্যাট করার মত একজন ব্যাটসম্যান? তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার দেখে তো মনে হয় না।

তিন ফরমাটেই তিনি জাতীয় দলের হয়ে ব্যাট করেন ছয় কিংবা সাতে। অার জাতীয় ক্রিকেট লিগে করেন চার অথবা পাঁচে। অাসুন দেখে নেই বাংলাদেশের এই তরুন সুপারস্টারের ক্রিকেট ক্যারিয়ার। বাংলাদেশের জাতীয় লিগে তিনি একজন রান মেশিন। ফাস্ট ক্লাস ক্রিকেটে তিনি ২৪ ম্যাচে ৩৮ ইনিংসে ২৪১৮ রান করেছেন।

তার ব্যাটিং গড় ৭০.২৩। ৮ শতকের পাশে রয়েছে ১০ টি অর্ধশতক। তার মধ্যে রয়েছে একধিক ডাবল সেঞ্চুরি। সর্বচ্চো স্কোর ২৮২ রান। কনো সন্দেহ নেই তিনি টেস্ট ক্রিকেটের জন্য একজন অাদর্শ ক্রিকেটার। যেখানে বাংলাদেশে টেস্টের জন্য টপ ওয়ার্ডার ব্যাটসম্যানের অভাব।

সেখানে মোসাদ্দেকের মত একজন প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান থাকতে খুজতে হয় অন্য কাউকে। শেষ শ্রীংলঙ্কা সিরিজে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। সেখানে ম্যাচ জয়ে অসাধারন অবদান রাখেন তিনি।

দুই ইনিংস মিলে করেন ৮৮ রান। সর্বচ্চো স্কোর ৭৫ রান। অার তাই মোসাদ্দেকে যদি সঠিক ভাবে ব্যাবহার করা হয় তাহলে তিনি বাংলাদেশের তিন নম্বার ব্যাটিং পজিশনের সমস্যার সমাধান হতে পারে। কিন্তু এবার তিনি সুয়োগই পেলেন না ঘরের মাঠে ত্রিদেশী সিরিজে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে মুমিনুল হকের ডাবল সেঞ্চুরির কল্যাণে প্রথম ইনিংসেই রানের পাহাড় গড়ে ইসলামী ব্যাংক ইস্ট জোন। বিসিএলের ষষ্ঠ আসরের প্রথম রাউন্ডে তাদের বড় সংগ্রহের জবাবে জোড়া সেঞ্চুরিতে ভর করে লড়ছে প্রাইম ব্যাংক সাউথ জোন।

বিকেএসপিতে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে গতকাল ১২৮ রান তুলতে ৩ উইকেট হারিয়েছিল সাউথ জোন। আজ সেখান থেকে ব্যাট করতে নেমে সারাদিনে দলটি উইকেট হারিয়েছে মাত্র ২টি। তৃতীয় দিন শেষে প্রাইম ব্যাংক সাউথ জোনের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৩১৮।

গতকাল ২২ রানে অপরজিত থেকে দিনশেষ করেছিলেন তুষার ইমরান। তার সঙ্গে ৪২ রানে অপরপ্রান্তে অপরাজিত ছিলেন মোসাদ্দেক। ইসলামী ব্যাংক ইস্ট জোনের বোলারদের কড়াভাবে শাসিয়ে আজ তুষার ও মোসাদ্দেক সেঞ্চুরি তুলে নেন। ব্যক্তিগত ১০৫ রানে আউট হয়েছেন তুষার ইমরান।

আর মাত্র ৩৫ রান হলেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করতেন তুষার। ১৫৩ ম্যাচে তার সংখ্যা এখন ৯৯৬৫। আজকের সেঞ্চুরির মধ্য দিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তুষারের সেঞ্চুরির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে।

দলীয় ২৭৭ রানের সময় আজ অলক কাপালির বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তুষার। চারদিনের ম্যাচ হওয়ায় আজ তৃতীয় দিন শেষে এই ম্যাচে হয়তো তার ১০ হাজার রানের মাইলফলকে পৌঁছা সম্ভব হচ্ছে না।

তুষারের পর দলের রানের সঙ্গে আর ১০ রান যোগ করতেই সাজঘরে ফেরেন মোসাদ্দেক হোসেন। ব্যক্তিগত ১১০ রানের মাথায় সোহাগ গাজীর শিকার হন তিনি। সাউদ জোনের হয়ে আল আমিন ১৭ ও কাজী নুরুল ১৩ রানে অপরাজিত রয়েছেন। ২২৮ রানে পিছিয়ে থেকে গতকাল চতুর্থ ও শেষ দিনের খেলা শুরু করবে প্রাইম ব্যাংক সাউথ জোন।