অস্ট্রেলিয়ার সামনে অপেক্ষা করছে আরো বড় বিপদ

প্রায় এক যুগ ধরে যে দলকে অবহেলা করে গেছে অস্ট্রেলিয়া, সেই দলের সামনে এখন নতজানু হয়ে পড়ে থাকার দশা তাদের। ঢাকার ২০ রানের ক্ষতটা এখনো দগদগে। এই ঘা সারতে লেগে যাবে লম্বা সময়। স্টিভ স্মিথদের আপাতত দরকার ‘ছুটি’। যাতে ক্ষতে প্রলেপ দেয়ার কাজটা দ্রুত করা যায়। কিন্তু তা হচ্ছে কই? ক্ষত নিয়েই যে তাদের নামতে হচ্ছে চট্টগ্রামে। যেখানে হয়তো অপেক্ষায় আছে আরো বড় বিপদ।

ঐতিহ্যগতভাবেই চট্টগ্রাম বাংলাদেশের সৌভাগ্যের ভেন্যু। একটা টেস্ট জয়ের জন্য বাংলাদেশ যখন বুভুক্ষু হয়ে ছিলো। তখন চট্টগ্রামেই শুরু হয়েছিলো ইতিহাসের নতুন অধ্যায়। টেস্ট স্টাটাস পাওয়ার পাঁচ বছর পর এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে ধরা দিয়েছিলো প্রথম জয়। তারপর, গত এক যুগে সেখানে এসেছে আরো স্মরণীয় সব মুহূর্ত। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসের যা লেখা থাকবে ‘বোল্ড’ করে।

আরো একবার বন্দরনগরীতে খেলতে নামার আগে, বাংলাদেশকে হাতছানি দিচ্ছে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কীর্তির সম্ভাবানা— অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়। বাংলাদেশ যখন এই সম্ভাবনাকে বাস্তব করার স্বপ্নে বিভোর, অস্ট্রেলিয়া তখন কাঁপছে নতুন বিপদের শঙ্কায়।

এশিয়াতে বলার মতো কিছু করতে না পারার কারণে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল নিজ দেশে অনেক দিন ধরেই সহ্য করে যাচ্ছে নানা টিপ্পনী। বাংলাদেশে তাই স্টিভ স্মিথরা সেই টিপ্পনী জবাব দেয়ার স্বপ্নই নিশ্চয় দেখছিলেন। কিন্তু জবাব যে জমা হয়ে ছিলো বাংলাদেশেরও।

গত ১১ বছর ধরে সহ্য করে যাওয়া অবহেলার ভারটা যে মুশফিকরা বইছিলেন অত্যন্ত কষ্ট করে। জবাবটাও দিলেন বড় নির্মমভাবে। বাংলাদেশ টেস্ট জিতে গেলো চারদিনেরও কম সময়ে। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম বড় আঘাত এটি।

shakib flying against australia at dhaka

এমন একটা আঘাতের পর স্বভাবতই অসিদের কোমড় সোজা করে দাঁড়াতে কষ্ট হচ্ছে এখন। আর এটাই তো তাদেরকে আক্রমণ করার মোক্ষম সময়। স্টিভ স্মিথ তো বলেই দিয়েছেন, ‘চট্টগ্রামে আমরা চাপে থাকবো। কারণ দুই ম্যাচের সিরিজটিতে আমরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে আছি।’

অস্ট্রেলিয়া পিছিয়ে আছে— এটা যখন তাদের অধিনায়কই বলেন, তখন তো বাংলাদেশ আরো আগ্রাসী হয়ে উঠবে, এটাই স্বাভাবিক। সাকিব বলে রেখেছেন, ‘চেষ্টা থাকবে জেতার। আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামবো। হতে পারে আবার নাও হতে পারে।’

ঢাকায় জেতার পরপরই নতুন এক ইতিহাসে ঢুকে গেছে বাংলাদেশ। ওয়ানডের মতো টেস্টেও বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে যাচ্ছে প্রবল বিক্রমে। চট্টগ্রামে মুশফিকরা যদি আবার তার একটা প্রমাণ রাখেন। সেটা অবশ্যই অবাক হওয়ার মতো কিছু হবে না। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যা, তাতে অস্ট্রেলিয়ার জন্য এই বিপদ থেকে রক্ষা বেশ কঠিনই এখন।